গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে বছরের পর বছর ধরে শান্তিতে ভোগদখল করে আসা পৈত্রিক ও ফৌত সুত্রে প্রাপ্ত জমি অন্যের নামে রেকর্ড। আর সেই ভুলের বিরুদ্ধে আদালতে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করায় উল্টো এখন ওই ভোগদখলীয় জমি বেদখল দেওয়ার হুমকি। প্রতিপক্ষগণের অনবরত বেদখলের হুমকি আর মানসিক নির্যাতনে বর্তমানে চরম বিপাকে দিন কাটছে মর্মে অভিযোগ মামলার বাদী শামসুল হক ছকু ও তার স্বজনদের।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের কিসামত বাগচি গ্রামে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, কিসামত বাগচি গ্রামের মৃত এন্তাজ আলীর পুত্র শামসুল হক ছকুগং কেশালিডাঙ্গা মৌজার জেএল নং-১০, এসএ ৭০৮, ৬০৫, আরএস/ডিপি ২৩ সাবেক দাগ ২৮৩২ হাল দাগ ৪৯৯৯ এর ২৪ শতাংশ জমির মধ্যে দক্ষিন ধারে ১৩.৪২ শতাংশ ফৌত এবং আরএস/ডিপি ১০৮৯ সাবেক ১৭৯৬ হাল দাগ ৪৭৫৪ এর ২৫ শতাংশ জমির মধ্যে দক্ষিণ ধারে ১৬.১৭ শতাংশ পৈত্রিকসহ মোট ২৯.৫৮ শতাংশ জমি প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ বছর ধরে চাষাবাদে ভোগদখল করে আসছেন।
এমতাবস্থায় গত ১৫-০৯-২০২৬ইং তারিখে শামসুল হক ছকুগং জমির নালিশী খতিয়ানে জাবেদা নকল সংগ্রহ করে দেখতে পান সম্প্রতি মাঠ জরিপ ও চুড়ান্ত রেকর্ডে ওই জমি চাচা খোদা বকস এর তিন কন্যা শাহিনুর বেগম, অমিছা খাতুন ও নুরুন্নাহার বেগমের নামে রেকর্ড হয়ে গেছে।
এই চরম অসঙ্গতি ও ভুল রেকর্ডের প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী শামসুল হক ছকুগং বাদী হয়ে গত ২২-০৯-২০২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞ আদালতে একটি রেকর্ড সংশোধন ও স্বত্ব প্রচারের মামলা
(নং ২৩০/২০২৬) দায়ের করেন।
মামলার বাদী শামসুল হক ছকুগং এর দাবী, “আদালতে মামলা দায়ের করার পর থেকেই প্রতিপক্ষ শাহিনুর বেগমগং চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তারা বাদী ও তার পরিবারকে নানাভাবে চাপ দিতে থাকে। বাদী মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় প্রত্যক্ষ হুমকি।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ওই ২৯.৫৮ শতাংশ
নালিশী জমি আমরা ভোগদখল করে আসছি। ভুল রেকর্ডের বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া কি আমাদের অপরাধ? মামলা করার পর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের ভোগদখলীয় জমির ওপরে লাগানো গাছ-পালা কর্তন করে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তারা বলছে, মামলা না তুললে জমি দখলে নিবে এবং ফৌজদারি মামলা দিয়ে আমাদের গ্রাম ছাড়া করবে।”
তিনি আরও দাবী করেন, “প্রতিপক্ষগণের এমন প্রকাশ্য হুমকির পর থেকে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ভেস্তে গেছে। আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে মামলা করেও এখন নিজেদের জানমাল রক্ষায় প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, “বিরোধপূর্ণ জমিটি দীর্ঘদিন ধরেই বাদীর দখলেই আছে। তবে রেকর্ড সংশোধনের মামলা করার পর গাছপালার ক্ষতি সাধন করা কিংবা হুমকি-ধমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।”
প্রতিপক্ষ শাহিনুর বেগম এর স্বামী নুর মোহাম্মদ জানান, ওই জমি আমাদের ভোগদখলীয়। এখানে হুমকি ধামকী দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ একাধিকবার সালিশ বৈঠক করেছেন। সালিশে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তারা সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মামলা করেছে। মামলার রায়ে জমি পেলে ছেড়ে দেওয়া হবে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ.আর.এম মাহফুজার রহমান (রাশেদ) জানান, “সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে কাগজপত্র আলোচনা পর্যালোচনা করে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শামসুল হক ছকুগং
সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মামলা করায় এটি এখন এখতিয়ারের বাইরে চলে গেছে। এখন আদালতের বিষয়।”
এ রিপোর্ট লেখা অবধি জানা গেছে, এ বিষয়ে মামলার বাদী শামসুল হক ছকু নিরাপত্তার দাবিতে সাদুল্লাপুর থানায় জিডি দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।