গাইবান্ধার সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ লুটপাটে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও এলজিএসপিসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নামে আসা সরকারি অর্থের সিংহভাগই এখন এই কর্মকর্তার পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রাস্তা মেরামত, মসজিদ-মন্দির সংস্কার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে আসা সরকারি বরাদ্দের একটি বড় অংশই কাজ না করে বা দায়সারা কাজ করে তুলে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশের যোগসাজশে পিআইও রিয়াজুল ইসলাম ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে এসব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো প্রকল্প পাস করাতে হলে পিআইও-কে অগ্রিম কমিশন দিতে হয়। যে ঠিকাদার বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কমিশন দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন, তাদের বিল আটকে দিয়ে হয়রানি করা হয়।
ঘুষ ছাড়া নড়ছে না ফাইল ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, পিআইও অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইলই নড়ে না। প্রকল্পের প্রাক্কলন তৈরি, বরাদ্দ প্রদান এবং কাজের বিল ছাড় করার প্রতিটি পর্যায়ে তিনি মোটা অংকের ঘুষ দাবি করেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে বিলের চেক আটকে রাখা, এমনকি প্রকল্প বাতিলের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউপি সদস্য জানান, “উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের কাজ করতে গেলে পিআইও রিয়াজুলের সাথে আগে চুক্তি করতে হয়। কমিশন না দিলে তিনি এমন সব শর্ত জুড়ে দেন যে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।”
ক্ষমতার দাপটে ধরাছোঁয়ার বাইরে পিআইও রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়ার পরও অদৃশ্য শক্তির ইশারায় তিনি বারবার পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের।
প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে তিনি সদর উপজেলায় নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। এতে করে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক। আমি সরকারি বিধি মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, কেবল আইনি প্রক্রিয়ায় নয়, নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই তার দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তারা জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতির প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।