গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জাহিদ হাসান জিল্লুর নাম শুনলেই আঁতকে ওঠেন সাধারণ মানুষ। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও নানা অনিয়মের জাল বুনে যিনি গড়ে তুলেছেন এক ভয়ঙ্কর অপরাধের অন্ধকার জগত।
বহু মানুষ তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না।
এবার তার বিরুদ্ধে পাহাড়সম ক্ষোভ নিয়ে পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। এতে বেরিয়ে আসছে একের পর এক ভয়ঙ্কর ক্রাইমের চাঞ্চল্যকর তথ্য!
অভিযুক্ত জাহিদ হাসান জিল্লু উপজেলার দক্ষিন ধোপাডাঙ্গা (দালালপাড়া) গ্রামের মৃত ফরজান জালী মাষ্টারের পুত্র। অভিযোগকারী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম একই উপজেলার দক্ষিন রাজিবপুর গ্রামের মৃত আনছার আলী সরকারের পুত্র।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, জাহিদ হাসান জিল্লুর কোনো বৈধ পেশা নেই। সে দীর্ঘদিন ধরে সহজ-সরল মানুষকে সরকারি দপ্তরে লোভনীয় পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া তার কাজ। ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েও সে সর্বস্বান্ত করেছে। শুধু চাকরি নয়, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতাধীন বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সংবেদনশীল খাতগুলোকেও সে প্রতারণার হাতিয়ার বানিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকেও কৌশলে টাকা লুটিয়ে নিয়েছে। তার এই অপকর্মের প্রতিবাদ করতে গেলেই বিপরীতে মিলছে মারপিট করাসহ মামলা মোকদ্দমার গ্যাঁড়াকলে ফেলার হুমকী।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, জাহিদ হাসান জিল্লু দক্ষিন ধোপাডাঙ্গা (বেড়ার ভিটা) গ্রামের বাসিন্দা জনৈক আয়নাল হকের স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে সরকারি ভাবে ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। একই গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের স্ত্রী আজিরন বেওয়ার নিকট থেকে তার নাতিকে শিশু ভাতা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও একই গ্রামের ভেকির মোড় নামক স্থানের জনৈক মৃত রানু মিয়ার ছেলে মান্নান মিয়া ওরফে মাজহারুল’কে ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নৌবাহিনীতে চাকুরি পাইয়ে দেয়ার কথা বলে নিয়োগপত্র প্রদান করে ছিলেন। পরে নিয়োগপত্রটি ভুয়া প্রমাণিত হলে গত ১৮/০১/২০২৬ ইং তারিখ জাহিদ হাসান জিল্লু ও তার সহযোগী জনৈক নুরুন্নবীকে ভেকির মোড়ে ভুক্তোভুগির পরিবারসহ স্থানীয় লোকজন আটক করে রাখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মহিলা ওয়ার্ড মেম্বার স্বপ্না ও ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলমের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

জাহিদ হাসান জিল্লুর প্রতারণার এখানেই শেষ নয়, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় ওয়ারেন্টসহ একাধিক মামলা রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুন্দরগঞ্জ থানার জিডি নং-১৪৮ তারিখ ০৪-০৬-২০২২ইং মূলে এজাহারে অভিযুক্ত আসামী, ডিএমপি ঢাকার বনানী থানার মামলা নং-১ তারিখ ০৪-০৮-২০২০ ধারা ১৭০/৪১৯ দঃবিঃ। সুন্দরগঞ্জ থানার মামলা নং-৪ তারিখ ০৪-০৮-২০২০ ধারা ১৭০/৪১৯/৪২০দঃবিঃ। গাইবান্ধা সদর থানার মামলা নং-১০ তারিখ ০৪-০৬-২০১৭ ধারা ১৭০দঃবি। বগুড়া সদর থানার মামলা নং-৪১ তারিখ ২৬-১০-২০১১ ধারা ৪১৯/৪২০দ:বি। উপরোক্ত মামলাগুলোর মধ্যে ডিএমপি ঢাকা বনানী থানার মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী।
জাহিদ হাসান জিল্লুর বিরুদ্ধে এই সব অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্তসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম গত ০১-০৮-২০২৬ ইং তারিখে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সম্প্রতি সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাহিদ হাসান জিল্লু তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা দাবি করলেও, এসপি অফিসে দেওয়া অভিযোগ বলছে ভিন্ন কথা। ডিএমপি ঢাকা বনানী থানার মামলায় তিনি একজন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী।
জাহিদ হাসান জিল্লুর প্রতারণার এই ভয়াবহ জাল দ্রুত ছিন্ন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, আরও অনেকেই সর্বস্বান্ত হবেন বলে আশঙ্কা অভিযোগকারী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামসহ স্থানীয়দের।