গাইবান্ধা শহরের কলেজিয়েট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা নিজের নামে থাকা নগদ (Nagad) অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, শিক্ষার্থীদের দিয়ে কোচিং করিয়ে টাকা আদায় এবং বিদ্যালয়ের খাবার বাইরে পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত বিদ্যালয়ের ৭২ জন শিক্ষার্থীকে নিজ প্রতিষ্ঠানে কোচিং করানো হয়। এ সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসিক/নির্ধারিত হারে এক হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ প্রতিষ্ঠানে কোচিং করিয়ে এভাবে অর্থ আদায়ের বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়া কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত উপবৃত্তির টাকা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব বা অভিভাবকের অ্যাকাউন্টে না দিয়ে প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরার নিজ নামে থাকা নগদ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
অন্যদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবারের একটি অংশ বিদ্যালয়ের বাইরে পাচার করা হচ্ছে। এ ঘটনায়ও তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।
অভিভাবকদের দাবি, সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, শিক্ষা কার্যক্রম ও খাবার নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আরজুমান আরা জানান এইসব মিমাংসা হয়ে গেছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।