শহরের আদালত পাড়ার দীর্ঘসূত্রিতা আর বাড়তি খরচের চিন্তা। এসব ছাপিয়ে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নে এখন হাতের কাছেই মিলছে বিচার। ছোটখাটো কোন্দল, জমিজমা বা পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে গ্রাম আদালত। এতে স্বস্তি মিলছে সাধারণ মানুষের।
আগে সামান্য বিবাদেও কোর্ট-কাছারির পেছনে ঘুরতে হতো মাসের পর মাস। খরচ হতো টাকা। এখন ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে নামমাত্র ফি দিয়ে দ্রুত মিলছে সমাধান। উভয় পক্ষের সম্মতিতে স্থানীয়ভাবে রায় দেওয়ায় কমেছে দ্বন্দ্ব, বাড়ছে সামাজিক সম্প্রীতি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল সরকার বলেন, “আমরা মেম্বাররা চেষ্টা করি গ্রামের ছোটখাটো ঝগড়া-বিবাদগুলো স্থানীয়ভাবে বসে মিটিয়ে ফেলতে। এতে সাধারণ মানুষকে আর থানায় বা কোর্টে দৌড়াতে হয় না। দুই পক্ষই এখানে ন্যায়বিচার পায়।”
ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, “গ্রাম আদালত চালুর পর থেকে আমাদের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা অনেক বেড়েছে। আমরা চেষ্টা করি উভয় পক্ষের কথা শুনে নিরপেক্ষ রায় দিতে। এখানে কোনো দীর্ঘসূত্রিতা নেই, কোনো হয়রানিও নেই।”
স্থানীয়দের মতে, গ্রাম আদালত তাদের অর্থ ও সময় দুটোই বাঁচিয়েছে। ছোটখাটো বিরোধ আর বড় সংঘাতে রূপ নেয় না। ভরতখালী ইউনিয়নের এই সাফল্য গ্রামীণ জনপদে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।