গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সরকারি হাসপাতালে চেনা ভোগান্তির চিত্র বদলে দিয়ে এই হাসপাতালটি এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের ভরসার আলো।
এই হাসপাতালের সবচেয়ে বড় চমক এর উন্নত খাবার ও মনোরম পরিবেশ। সাধারণত সরকারি হাসপাতালের খাবার নিয়ে রোগীদের অভিযোগের অন্ত থাকে না। কিন্তু সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্থাপন করেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এখানে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন করা হয় অত্যন্ত যত্ন সহকারে। মনোরম পরিবেশে মানসম্মত খাবার পেয়ে রোগীরাও বেশ সন্তুষ্ট।
এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী জানান, “এখানে খাবারের মান খুবই ভালো। ঠিক সময়ে গরম খাবার দেয়। চিকিৎসা সেবার মানও ভালো।
তবে এই চোখ জুড়ানো সাফল্যের পথটা সহজ ছিল না। হাসপাতালটিতে রয়েছে তীব্র জনবল সংকট।প্রয়োজনীয় স্টাফের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও থমকে যায়নি সেবার চাকা। সাধ্যের সবটুকু দিয়ে দিন-রাত রোগীদের নিরলস চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন এখানকার দায়িত্বরতরা। সংকটকে জয় করে আন্তরিকতাই হয়ে উঠেছে এই হাসপাতালের মূল শক্তি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইলতুতমিশ আকন্দ (পিন্টু) জানান, “আমাদের জনবল সংকট রয়েছে এটা সত্যি, কিন্তু আমাদের টিমের প্রতিটি সদস্যের সেবা দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করাকে আমরা অগ্রাধিকার দিয়েছি, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ সরকারি সেবার ওপর শতভাগ আস্থা রাখতে পারে।”
সরকারি হাসপাতালে শুধু অবকাঠামো বা জনবলই শেষ কথা নয়, সদিচ্ছা আর মানবিক দায়িত্ববোধ থাকলে যে স্বাস্থ্যসেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া যায়, তার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত শূন্যপদগুলো পূরণ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই চিকিৎসা কেন্দ্রটিকে আরও গতিশীল করবে সরকার।