গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অফিসসহ স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বিভিন্ন সংস্কারকাজের নামে প্রায় ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। কোনো ধরনের কাজ না করিয়েই প্রতি বছর ভুয়া ভাউচার দাখিল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হকের বিরুদ্ধে। এই অর্থ আত্মসাতের পর তিনি বর্তমানে রংপুরে এসি অফিসে বদলি হয়ে গেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, গত ৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভূয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি টাকা উত্তোলন করা হলেও মাঠপর্যায়ে কাজের কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব নেই। পাউবোর চারপাশের সীমানাপ্রাচীর হেলে পড়েছে। স্টাফ কোয়ার্টারগুলোর দেওয়ালের পলেস্তরা ধ্বসে পড়ছে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। ঘরের চালের জং ধরা টিন আপনা আপনি খুলে পড়ে যাচ্ছে। মেঝেতে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। বর্ষা মৌসুমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরের এক কোণে আতঙ্কে বসে থাকতে হয় বাসিন্দাদের। কোয়ার্টারের চারপাশ আগাছা ও ঝাড়-জঙ্গলে পূর্ণ। রাতের আঁধারে পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকে। কোয়ার্টারের ভেতরে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজস্ব বাসভবন কিছুটা ভালো অবস্থায় থাকলেও, সেখানকার গার্ডরুমটির অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়—যা দেখতে অনেকটা লাশকাটা ঘরের মতো।
তৎকালীন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হকের বিরুদ্ধে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত গত ৫ বছরে কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে মোট ১কোটি ৫৩ লাখ ১৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি বদলি হয়ে রংপুর এসি অফিসে কর্মরত আছেন।
সরকারি অর্থ বরাদ্দের খাত ও বছরভিত্তিক অনিয়মের বিবরণগুলো হচ্ছে কোয়াটার মেরামতে একই কাজের বিপরীতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ লাখ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়।
দপ্তর মেরামত ও দেওয়াল রং কাজে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২০ লাখ ৪৯ হাজার টাকা বিল করা হয়।
রেইনকার্ট মেরামত ও স্যানিটারি সামগ্রী কাজে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমে স্যানিটারি মালামাল স্থাপন ও রেইনকার্ট মেরামতের নামে ২১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে একই কাজ দেখিয়ে ভূ-সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও কোয়ার্টারের স্থাপনা মেরামতের নামে আরও ৩১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।
কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেই এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন শেষে তিনি রংপুর এসি অফিসে বদলি হয়ে যান। তবে এই অনিয়মের বিষয়ে বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল হকের দাবি—যেহেতু তৎকালীন সময়ে আমি ছিলামনা। তাই এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারছি না।