সরকারি নির্দেশনায় রাত ১০টার পর আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার কথা থাকলেও গাইবান্ধার শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় সেই নির্দেশনা কতটা মানা হচ্ছে—এ নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মেলা প্রাঙ্গণে আলোকসজ্জা ও কার্যক্রম চলতে দেখা যাচ্ছে।
শুধু আলোকসজ্জাই নয়, মেলার আয়োজন ও পরিচালনা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা ও বিতর্ক। সরকারি বিধি-বিধান ও অনুমোদনের শর্ত মেনে মেলা পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাত ১০টার সময়সীমা পার হওয়ার পরও মেলা প্রাঙ্গণে আলোকসজ্জা অব্যাহত থাকে। যদি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার বিধান থেকে থাকে, তাহলে সেটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী—এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।
প্রশ্ন উঠেছে, নির্দেশনা থাকলে তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন? আর বাস্তবায়ন না হলে দায়ভার কার?
মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং অনুমোদনের সঙ্গে থাকা শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। মেলা পরিচালনার অনুমতিপত্রে কী কী শর্ত রয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা কতটুকু এবং সেগুলো বাস্তবে মানা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মেলা প্রাঙ্গণে নির্ধারিত সময়ের পরও কার্যক্রম চলার অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—নিয়মিত তদারকি হচ্ছে কি না।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের জন্য নিয়ম এক হলেও মেলার ক্ষেত্রে সেই নিয়মের প্রয়োগে কোনো ব্যতিক্রম হচ্ছে কি না, তা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
মেলা পরিচালনার অনুমোদন, শর্তাবলি, আলোকসজ্জার সময়সীমা, বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমতি এবং নির্ধারিত সময়ের পর মেলা কার্যক্রম চালানোর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের দাবি, মেলা হোক, ব্যবসা হোক কিংবা বিনোদন—সবকিছুর ঊর্ধ্বে সরকারি আইন ও বিধি-বিধান। তাই অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।