গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যা মামলায় তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকেলে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মোল্ল্যা সাইফুল আলম এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাড়াইকান্দি গ্রামের মৃত ইব্রাহীম ব্যাপারির ছেলে আবদুল হালিম (৩৯), আবদুল হামিদ (৩৭) ও মাহাবুর রহমান (৩৫)। রায় ঘোষণার সময় তিনজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ জানুয়ারি সকালে শ্রীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর (বাড়াইকান্দি) এলাকায় একটি জমির আইল কাটতে যান আসামিরা। এ সময় জমির ওয়ারিশ শাহাদাৎ হোসেন ও তাঁর স্বজনরা তাঁদের বাধা দেন।
এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের একপর্যায়ে আসামিদের কোদাল ও লাঠির আঘাতে শাহাদাৎ হোসেন, সাজেদা বেগম, সামছুল হক ও আবেদা বেগম গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। শাহাদাৎ হোসেনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই দিনই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পরদিন ৫ জানুয়ারি সকাল ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আতাউর রহমান ওই দিনই সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে বুধবার আদালত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। অভিযোগপত্রভুক্ত ১৩ আসামির মধ্যে তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মিজান বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন সহোদরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।