সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০১:১৫ পূর্বাহ্ন
নোটিশ :
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

ভরা মৌসুমেও শূন্য ইলিশ মোকাম

অনলাইন ডেস্ক / ৭১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ন

ইলিশের ভরা মৌসুম। অথচ বরিশালের সবচেয়ে বড় ইলিশ মোকামে নেই সেই চিরচেনা হাঁকডাক। যেখানে এ সময় সারিসারি ট্রলার থেকে ঝুড়িভর্তি রুপালি ইলিশ নামার কথা, সেখানে দেখা মিলছে হাতে গোনা কয়েক ঝুড়ি মাছের। সরবরাহ কমে যাওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। ফলে সাধারণ ক্রেতারা ইলিশ কিনতে না পেরে ঝুঁকছেন অন্য মাছের দিকে। আর মাছ না পেয়ে হতাশায় দিন কাটছে জেলে ও আড়তদারদের।

বুধবার সকালে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড পাইকারি মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে দেখা যায়, মৌসুমের শুরু হলেও ইলিশের আমদানি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ব্যবসায়ীদের দাবি, যেখানে এ সময়ে প্রতিদিন এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ মন ইলিশ পাওয়া যেত, সেখানে এখন মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ মন মাছ মোকামে আসছে। ফলে আগে যেখানে প্রতিদিন কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতো, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকায়।

মোকামে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। খুচরা বাজারে এসব মাছ আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ সুমন বলেন, এ বছর নদীতে ইলিশ খুবই কম। যারা সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন, তারাও আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। ওভার ফিশিংয়ের কারণে ইলিশের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যার প্রভাব অন্যান্য মাছের ওপরও পড়ছে। বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই ১ কেজি ইলিশের মন বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকায়। আর রপ্তানিযোগ্য বড় আকারের এলসি ইলিশের মন লাখ টাকারও বেশি।

পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী শহীদুল ইসলাম বলেন, অসাধু জেলে ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে আগামী প্রজন্ম শুধু ইলিশের নামই শুনবে, ইলিশ দেখতে পাবে না। সরকারের অভিযান নিয়মিত চালাতে হবে, সঙ্গে রেণু ও জাটকা সংরক্ষণও করতে হবে। দামের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারাও। নগরীর বাসিন্দা মাসুদ বলেন, যে ইলিশ আগে ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতাম, এখন একই মাছ কিনতে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা লাগছে। সরবরাহ কম থাকার সুযোগে একটি মহল দাম বাড়িয়ে রেখেছে।

আরেক ক্রেতা আল-আমিন বলেন, ইলিশের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। শেষ ইলিশ কবে খেয়েছি মনে নেই। বাচ্চা খেতে চায়, তাই বাধ্য হয়ে পাঙাশ মাছ কিনি। আগে ছোট ইলিশ কিনতাম ৭০০ কিংবা ৮০০ টাকায়, এখন সেই মাছের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা। কীভাবে কিনব ইলিশ। অন্যদিকে মাছ না পেয়ে হতাশ জেলেরা।

কীর্তনখোলা নদীর জেলে কাওসার বলেন, নদীতে ছোট-বড় কোনো সাইজের ইলিশই পাওয়া যাচ্ছে না। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। তার ওপর বৈরী আবহাওয়ার কারণে নিয়মিত নদীতে নামাও সম্ভব হচ্ছে না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে ঋণ শোধ করতে জাল বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। মৎস্যসংশ্লিষ্টদের মতে, নদী ও সাগরে অতিরিক্ত আহরণ, প্রাকৃতিক পরিবর্তন এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার প্রভাব মিলিয়ে এ মৌসুমে প্রত্যাশিত ইলিশ মিলছে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী ইলিশের বাজার আরও সংকটে পড়তে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর