ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লীতে এক নারীকে তিন দিন ধরে বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. আব্দুল লতিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী (৩০) সামান্য বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। গত ১৫ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ভূল্লী থানাধীন একটি এলাকায় স্বামীর বাড়ি থেকে তিনি নিখোঁজ হন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ করতে থাকেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নাপিতপাড়ার একটি কাঁচারাস্তায় ওই নারীকে খুঁজে পান তার স্বজনরা। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বজনদের অভিযুক্ত আব্দুল লতিফের (৫৮) বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তিনি জানান, ১৫ জুলাই থেকে তাকে ওই বাড়িতে রাখা হয়েছিল।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত শুক্রবার রাতে আব্দুল লতিফের স্ত্রী ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ওই নারীকে কৌশলে শয়নকক্ষে নিয়ে যান আব্দুল লতিফ। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। ওই নারী চিৎকার করলে আসামির স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে তাকে গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, পরদিন দুপুরে আব্দুল লতিফ তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারীকে নাপিতপাড়া মোড়ের একটি কাঁচারাস্তায় রেখে চলে যান বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে স্থানীয় লোকজনের সামনে আব্দুল লতিফ ধর্ষণের চেষ্টা করার কথা স্বীকার করে ক্ষমা চান—এমন অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন গয়া বিষয়টি থানায় জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও ওই নারীকে থানায় নিয়ে আসে। এরপর ওই নারীর ভাই বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভূল্লী থানার এসআই মো. আব্দুল মোত্তালেব প্রধান বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আব্দুল লতিফকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।