গাইবান্ধায় জমি রেজিস্ট্রি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনসংক্রান্ত এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জালিয়াতির অভিযোগে বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জাল স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করে তৈরি একটি এফিডেভিট বৈধ হিসেবে আদালতে উপস্থাপনের অভিযোগও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ও মামলার বাদী নাজমুল হুদা। এর আগে মঙ্গলবার সদর আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়। বুধবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে জেলা শহরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মামলার আসামিরা হলেন পলাশবাড়ী উপজেলার পূর্বপাড়া মহেশপুর এলাকার মানিক উল্লাহর ছেলে সাকোয়াত হোসেন ও তার ছেলে আসাদুজ্জামান।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট সকালে সাকোয়াত হোসেন ও তাঁর ছেলে আসাদুজ্জামান জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য একটি এফিডেভিট করতে আদালতের বেঞ্চ সহকারীর কাছে কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্র পর্যালোচনার সময় একই ব্যক্তির বিষয়ে একই ম্যাজিস্ট্রেটের নামে করা আরেকটি এফিডেভিটের ফটোকপি দেখতে পান বেঞ্চ সহকারী।
পরে আসাদুজ্জামান বেঞ্চ সহকারীর কাছে তার বাবা সাকোয়াত হোসেনের ‘একই ব্যক্তি মর্মে’ করা এফিডেভিটের মূল কপি দাখিল করেন। ওই এফিডেভিটে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদের নামে ব্যবহৃত স্বাক্ষর ও সিল তাঁর নয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই এফিডেভিটে ‘সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩, গাইবান্ধা’র সিল ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির আহম্মেদ গত ১৫ জুলাইয়ের আগে পলাশবাড়ী উপজেলার এফিডেভিট সম্পাদনের দায়িত্বে ছিলেন না।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিদের দাখিল করা এফিডেভিটে ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ দেখানো হয়েছে এবং এতে সাব্বির আহম্মেদের স্বাক্ষর রয়েছে। তবে আদালতের প্রকৃত এফিডেভিট রেজিস্টার যাচাই করে ওই নম্বরের কোনো এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। রেজিস্টারে সর্বশেষ ৫ মে ৪৫০/২৬ নম্বর স্মারকের এন্ট্রি রয়েছে।
নথির এসব তথ্য যাচাইয়ের পর এফিডেভিটটি জাল ও সৃজিত বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহযোগিতায় আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল জাল করে এফিডেভিটটি তৈরি এবং পরে সেটিকে বৈধ হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, জাল এফিডেভিটে ইংরেজি ভাষায় যে সিল ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও ভুয়া বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এর এফিডেভিটে ব্যবহৃত প্রকৃত সিল বাংলায়।
এ ঘটনায় সাকোয়াত হোসেন, আসাদুজ্জামানসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বেঞ্চ সহকারী নাজমুল হুদা বলেন, ‘জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির স্যারের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনায় এফিডেভিট করতে আসা বাবা ও ছেলের বিরুদ্ধে সদর আমলি আদালতে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনানুগ বিচার হবে বলে প্রত্যাশা করি।’