গাইবান্ধা শহরের সবুজপাড়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় সাথী বেগম (৩১) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় তার স্বামী ও কথিত মাদক ব্যবসায়ী প্লাবন মিয়া পালিয়ে যায়।
শুক্রবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি থানা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার, গাইবান্ধার সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ও গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশের টহল পার্টি যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজপাড়া এলাকায় বিভিন্ন মাদক স্পটে অভিযান পরিচালনা করা হয়। একপর্যায়ে কথিত মাদক ব্যবসায়ী প্লাবন মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালাতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কেনাবেচায় জড়িত কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় সাথী বেগমও কৌশলে পালিয়ে যায়।
পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে প্লাবন মিয়ার বাড়ির উত্তর দিকের শয়নকক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার বিছানার তোষকের নিচে সাদা পলিথিনে মোড়ানো দুটি নীল রঙের জিপার ব্যাগ থেকে ২০০ পিস, একটি সাদা প্লাস্টিকের কৌটার ভেতর থেকে ১০০ পিস এবং একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের কৌটা থেকে ২৫ পিস—মোট ৩২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া খাটের তোষকের নিচ থেকে বিভিন্ন নোটের মাদক বিক্রির নগদ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরবর্তীতে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হয়। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানার সামনে থেকে মোছাঃ সাথী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাথী বেগমের স্বামী মোঃ প্লাবন মিয়া (৪০), পিতা মোঃ আলম মিয়া, সাং-সবুজপাড়া, গাইবান্ধা সদর, একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় মাদক সংক্রান্ত ১৫টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযানের পর থেকে প্লাবন মিয়াকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার সাথী বেগম ও পলাতক প্লাবন মিয়ার বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি ২৯ আগস্ট দায়ের করা হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ও নগদ টাকা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে।