গাইবান্ধায় অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে সাফল্য দেখিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। অনলাইন ক্যাসিনোর কারবারি, ভারতীয় অবৈধ পণ্য চোরাকারবারি ও রবারি ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ও ছিনতাই হওয়া মালামাল। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট রাতে পৃথক অভিযানে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গোয়েন্দা পুলিশের এসব অভিযানে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন গাইবান্ধা জেলা ডিবির ওসি আব্দুল মোত্তালিব। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত অভিযান পরিচালনার কারণে ধারাবাহিক সাফল্য আসছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে ছিনতাই হওয়া ২২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময় অনলাইনভিত্তিক ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া অবৈধপথে আসা ৮৮ বস্তা জিরা উদ্ধার করে চোরাচালান ও মজুতদারি চক্রের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়েছে ডিবি। ১৫ আগস্ট রাতেও পৃথক অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তারের মধ্যদিয়ে অপরাধ দমনে ডিবির সক্রিয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে। এসব অভিযানে অপরাধীদের শনাক্তকরণ, গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছিনতাই, অনলাইন জুয়া, চোরাচালান ও মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে স্বস্তি। ডিবির এই কর্মতৎপরতার স্বীকৃতি হিসেবে সর্বশেষ কল্যাণ সভায় অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মোত্তালিবকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তার নেতৃত্ব, মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ডিবির অভিযানে সাফল্য আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিবি অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মোত্তালিব জানান, জেলার পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীনের সার্বিক নির্দেশনায় ও নেতৃত্বে উদ্ধার হওয়া মালামাল আইনানুগ প্রক্রিয়ায় জব্দ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। গাইবান্ধার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ধারাবাহিক এ অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।