গাইবান্ধার সাঘাটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে নিহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের একান্ত সাক্ষাতের বিষয়ে তথ্য জানতে ভুয়া এনএসআই কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি দেখানো ও তুলে নেওয়ার হুমকি দেয়ার ঘটনায় সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিহত সালাউদ্দিনের মামা শাহ মো. আতাউর রহমান।
এ ঘটনায় সাঘাটা থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুর রহমান বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত সালাউদ্দিনের আপন মামা শাহ মো. আতাউর রহমান। গত ১০ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি সালাউদ্দিনের কবর জিয়ারত করেন এবং পরে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎ করেন।
অভিযোগকারী জানান, ওইদিন রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ০১৬২১-১৫৭৫৩২ ও ০১৭১৬-১৬০১৮৮ নম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে তার মোবাইল ফোনে কল আসে। কলদাতারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এনএসআই কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সালাউদ্দিনের পরিবারের একান্ত সাক্ষাতে কী আলোচনা হয়েছে, তা জানতে চান।
আতাউর রহমানের দাবি, সাক্ষাতের বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানালে কলদাতারা তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনকে জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শের পর নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তিনি সাঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগে সাঘাটা উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এনামুল হক সরকার (৫০), যুব জামায়াতের কর্মী মো. সাজ্জাদ হোসেন শিহাব (২৫) এবং যুব জামায়াতের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শাহ মো. আতাউর রহমান বলেন, “ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে চাওয়া এবং পরে তুলে নেওয়ার হুমকিতে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
সাঘাটা থানার ওসি মাহবুর রহমান বলেন, “বুধবার রাতে ভুয়া এনএসআই পরিচয়ে ফোন করে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করছেন বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুর রহমান।”
তিনি আরও বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা বেরিয়ে আসবে।