প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলার প্রত্যয়ে গাইবান্ধায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
“বিনা মেঘে বৃষ্টি নয়, প্রত্যয়ের আলোয় দূর হোক আঁধার”—এই প্রত্যাশা নিয়ে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুসজ্জিত সম্মেলন কক্ষে এই অনাড়ম্বর প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
জেলার ৪টি প্রতিবন্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ করা হয়। এই মহৎ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপহার তুলে দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, আরিফ আফজালুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়, গাইবান্ধা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়, ভরতখালী অটিজম ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় এবং রামচন্দ্রপুর এ. আর. বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়।
মমত্ববোধ ও সাবলীলতায় ভরপুর এ আয়োজনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক যাদব সরকার এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মুশফিকুর রহমান, গাইবান্ধা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক ইমাম হাসিম, জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা-ফরিদা ইয়াসমিন, প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক, সুলতান মাহমুদ ও জাহাঙ্গীর আলম সরকার প্রমুখ।
এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থী অভিভাবকগণ উপস্থিতি ছিলেন। পুরো সম্মেলন কক্ষ জুড়ে ছিল এক আবেগঘন ও আনন্দমুখর পরিবেশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রতিবন্ধকতা মানুষের শারীরিক হতে পারে, কিন্তু তা কখনোই মনের বা মেধার হতে পারে না। আমাদের এই বিশেষ শিশুরা সমাজের বোঝা নয়, বরং সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। তাদের হাতে আজ ক্রীড়া সামগ্রী তুলে দেওয়া মানে তাদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করার ছোট্ট একটি প্রয়াস মাত্র। রাষ্ট্র ও সমাজ তাদের পাশে সবসময় রয়েছে।”
অনুষ্ঠানে শিক্ষা ও ক্রীড়া সামগ্রী হাতে পেয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাসিতে চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তাদের অভিভাবকদের মুখেও ছিল কৃতজ্ঞতা ও স্বস্তির ছাপ।