গাইবান্ধা শহরের নতুন ব্রিজ সংলগ্ন ঘাঘট নদী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবাধে বালু উত্তোলনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাদের দাবি, অসাধু বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে নদীতীর ও শহররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি স্থানে বাঁধে ধস দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নতুন ব্রিজের আশপাশে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে নদীর তীর ভাঙনের পাশাপাশি শহররক্ষা বাঁধের গোড়াও দুর্বল হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে বাঁধের কয়েকটি অংশে ধস সৃষ্টি হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সংস্কার ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে বর্ষার পানির চাপ বাড়লে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বারবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর তীরবর্তী এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন নদীর গতিপথ পরিবর্তন, তীরভাঙন এবং বাঁধের স্থায়িত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে গাইবান্ধা শহররক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ধস ও ক্ষয়ের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা না হলে শহরবাসীকে বড় ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতে পারে।