দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন, বিক্রি ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আখড়ায় পরিণত হওয়া একটি রেস্টুরেন্টে শিশু ধর্ষণচেষ্টার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা। সেই ঘটনার জেরে ক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনের সূত্র ধরে এবার নিরপরাধ গ্রামবাসীকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে রেস্টুরেন্ট মালিকের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ছাত্র শিবিরের গাইবান্ধা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ফেরদৌস সরকার রুম্মন, এলাকাবাসীর পক্ষে বেবী আক্তার, আশা খাতুন, নুরজাহান বেগম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মূল অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে রেস্টুরেন্ট মালিক মানিক মিয়া উল্টো ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন। ঘটনার পর থেকে মানিক মিয়া সাধারণ ও নিরপরাধ গ্রামবাসীকে আসামি করে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেন। বক্তারা অবিলম্বে নিরপরাধ মানুষের নামে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেড়ামারা ব্রিজ সংলগ্ন ‘জাফলং রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি খাবারের দোকানে
গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে উক্ত রেস্টুরেন্টের কর্মচারী আমির আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠে। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত বিক্ষুব্ধ জনতা ওই রেস্টুরেন্টটিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।
আজকের এই মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, এই মামলাকে পুঁজি করে মানিক মিয়া এলাকায় প্রকাশ্য ‘মামলা বাণিজ্য’ শুরু করেছেন। নিরীহ মানুষকে পুলিশি হয়রানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, তাদের নাম মামলায় জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পুরো গ্রাম পুরুষশূন্য ও আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।
রেস্টুরেন্ট মালিকের এই অনৈতিক হয়রানি ও চাঁদাবাজির হাত থেকে বাঁচতে আজ বুধবার সকাল থেকেই গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন শত শত নারী-পুরুষ। ‘নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করো’, ‘মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করো’ সংবলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে তারা মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বলেন, “একটি অনৈতিক ও অপরাধের আখড়া জাফলং রেস্টুরেন্ট। সেখানে ৬ বছরের অবুঝ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। অপরাধীর বিচার না চেয়ে মালিক মানিক মিয়া এখন পুরো গ্রামকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ধান্দা করছেন। প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা অবিলম্বে এই মিথ্যা ও সাজানো মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।”