বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শিরোনাম
গাইবান্ধায় ভুয়া রসিদে গ্রাহকের সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নতুন ইসিজি মেশিন হস্তান্তর সাদুল্যাপুরের মাইটিভির প্রতিনিধি শাহীন মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সাঘাটায় ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার সাঘাটায় হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গোবিন্দগঞ্জে দুই মাদকসেবির এক মাসের কারাদণ্ড সুন্দরগঞ্জে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার : প্রতিবাদে বিক্ষোভ গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর রাইগ্রামের নাম শুনেই ভেঙে যায় বিয়ের সম্পর্ক গোবিন্দগঞ্জে মাদক ,হ্যাকার সহ ১৭ জনকে গ্রেফতার জমির ক্রেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীর অপপ্রচার প্রতিবাদে স্বামীর সংবাদ সম্মেলন
নোটিশ :
প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে

গাইবান্ধায় ভুয়া রসিদে গ্রাহকের সোয়া ২ কোটি টাকা আত্মসাৎ

স্টাফ রিপোর্টার / ১৬৬ Time View
Update : বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট আউটলেট শাখার ৪৪ গ্রাহকের সোয়া দুই কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ব্যাংকের ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহবুবার রহমানের যোগসাজশে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ জালিয়াতি করা হয়। খবর পেয়ে ব্যাংক প্রাঙ্গণে গ্রাহকরা ক্ষোভে ফেটে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে জনরোষের মুখে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন অভিযুক্তরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে রংপুরের পীরগঞ্জ শাখার অধীনে ধাপেরহাটে এই এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়। পীরগঞ্জের ওয়ালিউর রহমানের পরিচালনায় সেখানে ক্যাশিয়ার হিসেবে সবুজ মিয়া ও পিয়ন হিসেবে মাহবুবার রহমান দায়িত্ব পালন করছিলেন। জালিয়াতির অংশ হিসেবে তারা নিরীহ গ্রাহকদের টার্গেট করতেন। ডিপিএস ও মেয়াদি আমানতের (এফডিআর) টাকা গ্রাহকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা না করে, ভুয়া জমার কাগজ দিয়ে নিজের পকেটে নিতেন ওই দুই কর্মী।

গত রোববার এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা না হওয়ার বিষয়টি সামনে এলে মুহূর্তে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। শত শত ব্যাংক গ্রাহক শাখায় গিয়ে নিজেদের জমানো টাকার হিসাব চাইতে থাকেন। তখন একে একে উন্মোচিত হয় জালিয়াতির ভয়াবহ চিত্র। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ক্যাশিয়ার ও পিয়নকে অবরুদ্ধ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে হিসাব করে ৪৪ প্রতারিত গ্রাহকের সোয়া দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করার কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহবুবার রহমান। তারা লিখিত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করলে গত রোববার গভীর রাতে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
এজেন্ট শাখার পরিচালক ওয়ালিউর রহমান বলেন, ‘অভিযুক্ত দুজন টাকা ফেরতের জন্য এক মাস সময় নিয়েছে। টাকা আদায় হলেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে আরও কেউ প্রতারিত হয়েছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমান জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। অন্যদিকে সাদুল্লাপুর থানার ওসি এ কে এম হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে নজরদারি রাখা হচ্ছে।’

বক্তব্য জানতে ইসলামী ব্যাংকের মূল পরিচালনাকারী পীরগঞ্জ শাখার ম্যানেজারের ফোনে একাধিকবার কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এদিকে গতকাল সোমবার দিনভর ভুক্তভোগী ও আতঙ্কিত গ্রাহকদের ওই এজেন্ট শাখায় ভিড় করতে দেখা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এক ক্লিকে বিভাগের খবর